Moving Average বা চলমান গড় — নামটাই ব্যাখ্যা। গত কয়েক দিনের বন্ধ হওয়ার দামের গড়, যা প্রতিদিন নতুন করে হিসাব হয়।
২০ দিনের moving average মানে গত ২০ দিনের গড় দাম। আজ নতুন দিন যোগ হবে, ২১ দিন আগেরটা বাদ যাবে — তাই লাইনটা "চলে"।
দৈনিক দাম এলোমেলো ওঠানামা করে। একদিন খবর, একদিন কারও বড় অর্ডার, একদিন কিছুই না। এই গোলমালের মধ্যে আসল দিকটা কী — সেটা বোঝা কঠিন।
Moving average সেই গোলমাল ছেঁকে ফেলে। এটা ভবিষ্যদ্বাণী করে না — শুধু বলে দেয় দাম কোন দিকে ঝুঁকে আছে।
Simple Moving Average (SMA) আর Exponential (EMA) — দুটো পদ্ধতি আছে। SMA সব দিনকে সমান গুরুত্ব দেয়, EMA সাম্প্রতিক দিনকে বেশি। এই পদ্ধতিতে সাধারণত SMA ব্যবহার হয়, কারণ এটা ধীর এবং কম ভুল সংকেত দেয় — swing trading-এ যা কাম্য।
একটা moving average একটা সময়সীমা দেখায়। তিনটে একসঙ্গে দেখলে তিনটে আলাদা সময়সীমার ছবি একসঙ্গে পাওয়া যায়।
| লাইন | কী দেখায় | কার জন্য গুরুত্বপূর্ণ |
|---|---|---|
| ২০ দিন | স্বল্পমেয়াদি গতি | সাম্প্রতিক গতিবিধি |
| ৫০ দিন | মধ্যমেয়াদি প্রবণতা | কয়েক মাসের ছবি |
| ২০০ দিন | দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা | এক বছরের গড় অবস্থান |
একা ২০ দিনের লাইন দেখলে আপনি প্রতিটা ছোট ওঠানামায় প্রতিক্রিয়া দেবেন। একা ২০০ দিনের লাইন দেখলে আপনি অনেক দেরিতে বুঝবেন। তিনটে একসঙ্গে দেখলে প্রেক্ষাপট পাওয়া যায়।
আসল তথ্য একটা লাইনে নেই — তিনটে লাইন একে অপরের সাপেক্ষে কোথায় আছে তাতে আছে।
দাম সবার উপরে, তার নিচে ২০, তার নিচে ৫০, সবার নিচে ২০০। এর মানে — সাম্প্রতিক গড় মধ্যমেয়াদি গড়ের উপরে, যা আবার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের উপরে। প্রতিটা স্তরে কেনার চাপ বেশি।
উল্টোটা — ২০০ সবার উপরে, তারপর ৫০, তারপর ২০, আর দাম সবার নিচে। এর মানে দাম তার সব গড় থেকেই নিচে নেমে এসেছে।
| বিন্যাস | যা বোঝায় |
|---|---|
| দাম > ২০ > ৫০ > ২০০ | শক্তিশালী উপরের প্রবণতা |
| দাম < ২০ < ৫০ < ২০০ | গভীর correction অবস্থা |
| লাইনগুলো জড়িয়ে আছে | দিকহীন, অপেক্ষা করুন |
| দাম ২০০-র কাছাকাছি | সিদ্ধান্তের এলাকা |
তৃতীয় সারিটা সবচেয়ে কম বলা হয়। যখন তিনটে লাইন কাছাকাছি জড়িয়ে থাকে, তখন বাজার দিকহীন — এই সময়ে যেকোনো সংকেত অবিশ্বস্ত। এই অবস্থায় সবচেয়ে ভাল কাজ হল কিছু না করা।
এই কাঠামোয় যে অবস্থাটা খোঁজা হয়, সেটা হল — ভাল কোম্পানির দাম তিনটে গড়েরই নিচে নেমে এসেছে।
অর্থাৎ দাম ২০ দিনের গড়ের নিচে, ৫০ দিনের গড়ের নিচে, এবং ২০০ দিনের গড়েরও নিচে। বাজারের ভাষায় এটা "correction zone"।
কারণ ভাল কোম্পানি সবসময় এই অবস্থায় থাকে না। যখন থাকে, তখন সাধারণত দুটোর একটা কারণে — পুরো বাজার পড়েছে, বা সেক্টরে সাময়িক চাপ। দুটোই সাময়িক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদি কোম্পানিটা সত্যিই ভাল হয়।
এই "যদি"-টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। দুর্বল কোম্পানিও তিনটে গড়ের নিচে থাকে — এবং সেখানেই থাকে, বছরের পর বছর। চার্ট দুটোকে একইরকম দেখায়। এই কারণেই কোম্পানি বাছাই আগে হয়, চার্ট পরে।
দাম তিনটে গড়ের নিচে চলে এল — এটা একটা তথ্য। কিন্তু কত লোক লেনদেন করছে, সেটা আরেকটা তথ্য, এবং প্রায়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দাম ধীরে ধীরে নামছে, কিন্তু লেনদেন কম। এর মানে কেউ বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না — দাম শুধু ভেসে নামছে। এতে সাধারণত কিছু বোঝা যায় না।
হঠাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি লেনদেন। এর মানে কেউ বড় পরিমাণে হাতবদল করছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ — কিন্তু এটা একা বলে না কে কিনছে আর কে বেচছে।
এখানেই আসল সূত্র। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দামের মধ্যে শেয়ারটা কোথায় বন্ধ হল?
| বেশি ভলিউম, এবং… | সাধারণত যা বোঝায় |
|---|---|
| দিনের উপরের দিকে বন্ধ | ক্রেতারা দিনের শেষে জিতেছে |
| দিনের নিচের দিকে বন্ধ | বিক্রেতারা জিতেছে |
| মাঝামাঝি বন্ধ | স্পষ্ট কিছু নয় |
একই আকারের ভলিউম স্পাইক দুটো সম্পূর্ণ উল্টো জিনিস বোঝাতে পারে — নির্ভর করছে দিনটা কোথায় শেষ হল তার উপর। এই একটা পর্যবেক্ষণ বহু ভুল ট্রেড আটকে দেয়।
কোনো পেইড টুল লাগে না। TradingView-এর বিনামূল্যের সংস্করণেই হয়।
এবার চার্টে তিনটে লাইন আর নিচে ভলিউম দেখতে পাবেন। প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু দেখুন — বিভিন্ন কোম্পানির চার্টে বিন্যাসটা কেমন বদলায়।
একটা ব্যবহারিক নিয়ম যা অনেক তাড়াহুড়ো আটকায়: বাজার বন্ধ হওয়ার পরে সংকেত দেখুন, পরের দিন সকালে কাজ করুন।
বাজার চলাকালীন দাম নড়তেই থাকে। দুপুর দুটোয় যেটা সংকেত মনে হচ্ছে, সাড়ে তিনটেয় সেটা নাও থাকতে পারে। দিনের বন্ধ হওয়ার দামই একমাত্র চূড়ান্ত সংখ্যা।
এতে আরেকটা লাভ হয় — আপনি রাতে শান্ত মাথায় সিদ্ধান্ত নেন, চলন্ত দামের সামনে বসে নয়। Swing trading-এর এটাই মূল সুবিধা, এবং এই নিয়ম সেটাকে কাজে লাগায়।
এই একটা অভ্যাস — "দেখা আজ, কাজ কাল" — চাকরিজীবীদের জন্য পদ্ধতিটাকে বাস্তবসম্মত করে তোলে। দিনে ২০-৩০ মিনিট, বাজার বন্ধ হওয়ার পরে, যথেষ্ট।
প্রতিটা হাতিয়ারের সীমা আছে, এবং সেটা জানা হাতিয়ারটা জানার মতোই জরুরি।
শেষ পয়েন্টটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চার্ট বলে কখন। কী — সেটা আগেই ঠিক হয়ে থাকতে হবে, সংখ্যা দেখে।
সুইং ট্রেডিং-এর পুরো প্রক্রিয়া — স্টক বাছাই, এন্ট্রি, পজিশন সাইজিং ও এক্সিট — আসল চার্ট দেখে শেখানো হয়। কোনো টিপস নয়, কোনো বাই-সেল কল নয়।
WhatsApp-এ সিট বুক করুনএই পদ্ধতিতে সাধারণত Simple Moving Average (SMA) ব্যবহার হয়। EMA সাম্প্রতিক দামকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাই দ্রুত সাড়া দেয় — কিন্তু বেশি ভুল সংকেতও দেয়। Swing trading-এ ধীর ও স্থিতিশীল হওয়াই কাম্য।
চলে, এবং অনেকে ১০, ৩০, ১০০ বা অন্য সংখ্যাও ব্যবহার করেন। তবে ২০, ৫০, ২০০ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, ফলে বহু ট্রেডার একই লাইন দেখেন। গুরুত্বপূর্ণ হল একটা সেট ঠিক করে সেটাই ব্যবহার করা।
Daily chart। Swing trading-এর সিদ্ধান্ত দৈনিক বন্ধ হওয়ার দামের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। Intraday chart-এ একই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে অনেক বেশি ভুল সংকেত আসবে।
না। এটা শুধু একটা অবস্থা — দাম correction-এ আছে। দুর্বল কোম্পানিও এই অবস্থায় থাকে, এবং সেখানেই থেকে যায়। কোম্পানিটা মানসম্পন্ন কি না সেটা আগে সংখ্যা দেখে যাচাই করতে হয়।
দাম বলে কী হয়েছে, ভলিউম বলে কতটা গুরুত্ব দিয়ে হয়েছে। বেশি ভলিউমে দিনের উপরের দিকে বন্ধ হওয়া আর নিচের দিকে বন্ধ হওয়া — দুটো সম্পূর্ণ উল্টো জিনিস, যদিও ভলিউম একই।
বাজার বন্ধ হওয়ার পরে, অর্থাৎ বিকেল সাড়ে তিনটের পরে। দিনের চূড়ান্ত বন্ধ হওয়ার দামই একমাত্র নির্ভরযোগ্য সংখ্যা। কাজ পরের দিন সকালে করবেন।