NSE-তে দুই হাজারের বেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত। একজন swing trader-এর পক্ষে সবগুলো দেখা অসম্ভব, এবং অপ্রয়োজনীয়ও।
V40 হল একটা বাছাই পদ্ধতি — কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড দিয়ে ছেঁকে সবচেয়ে মজবুত কোম্পানিগুলোকে আলাদা করা। এর ফলে যে তালিকাটা তৈরি হয়, সেটাই আপনার কাজের এলাকা। এর বাইরের কোম্পানিতে আপনি যান না।
একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। V40 কোনো সরকারি বা এক্সচেঞ্জ-স্বীকৃত সূচক নয় — Nifty 50 বা Sensex-এর মতো নয়। এটা ভারতীয় খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হওয়া একটা বাছাইয়ের কাঠামো। কোনো নির্দিষ্ট তালিকা "সরকারি" নয়, এবং বিভিন্ন জায়গায় সামান্য আলাদা তালিকা দেখতে পাবেন।
এই পাতায় কোনো শেয়ারের নাম সুপারিশ হিসেবে দেওয়া হবে না। যা শেখানো হবে তা হল মানদণ্ডগুলো — যাতে আপনি নিজে তালিকা তৈরি করতে পারেন, বিনামূল্যে।
নতুন ট্রেডাররা সাধারণত উল্টো পথে চলেন। তাঁরা প্রথমে একটা শেয়ারের নাম শোনেন — খবরে, ইউটিউবে, বন্ধুর কাছে — তারপর সেটার চার্ট খোলেন।
এতে দুটো সমস্যা হয়। এক, আপনি এমন কোম্পানি দেখছেন যেটা কেউ আপনাকে দেখিয়েছে, আপনি বেছে নেননি। দুই, ততক্ষণে খবরটা সবাই জেনে গেছে।
আগে একটা তালিকা তৈরি করুন — মান অনুযায়ী, দাম বা খবর দেখে নয়। তারপর শুধু সেই তালিকার মধ্যেই সুযোগ খুঁজুন।
এতে যা বদলায়: আপনি আর প্রতিদিন নতুন নাম খুঁজে বেড়ান না। একই ৪০-৫০টা কোম্পানি বারবার দেখতে দেখতে তাদের চরিত্র বুঝতে শুরু করেন — কোনটা কত দ্রুত নড়ে, কোনটা কখন ফলাফল দেয়, কোনটার আচরণ কেমন।
একটা ছোট তালিকা নিয়ে গভীরভাবে কাজ করা, দুই হাজার কোম্পানির মধ্যে ভেসে বেড়ানোর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
V40 কাঠামোয় সাধারণত যে বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা হয় —
Debt to Equity অনুপাত যত কম তত ভাল। ঋণে ডোবা কোম্পানি খারাপ সময়ে সবচেয়ে দ্রুত পড়ে, কারণ ব্যবসা কমলেও সুদ দিতেই হয়।
কোম্পানিটা তার শ্রেণিতে এক বা দুই নম্বরে কি না। মন্দার সময় নেতারা টিকে যায়; সপ্তম স্থানের কোম্পানি প্রায়ই টেকে না।
বেশ কয়েকটা মন্দা পেরিয়ে আসা একটা প্রমাণ, যা নতুন কোম্পানি দিতে পারে না। বিশ বছরে অন্তত দুটো বড় সংকট এসেছে — কোম্পানি সেগুলো কীভাবে সামলেছে সেটা রেকর্ডে আছে।
কোম্পানি কি গ্রাহক না হারিয়ে দাম বাড়াতে পারে? পরীক্ষা সহজ — গত কয়েক বছরে দাম বাড়িয়েছে কি না, এবং margin ধরে রাখতে পেরেছে কি না।
প্রশ্নটা সোজাসুজি করুন: ২০৪৫ সালেও মানুষ কি এই জিনিস কিনবে? সাবান, ওষুধ, রং, বিদ্যুৎ — হ্যাঁ। কিছু প্রযুক্তি বা ফ্যাশন-নির্ভর ব্যবসা — হয়তো না।
এই পদ্ধতিতে সরকারি মালিকানার কোম্পানি এড়িয়ে চলা হয়, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত অনেক সময় ব্যবসার যুক্তির বদলে নীতির অনুসরণ করে। এটা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির বিচার নয় — পদ্ধতির একটা নিয়ম।
উপরের ছয়টা গুণগত। এগুলোর সঙ্গে কিছু সংখ্যাগত ফিল্টারও ব্যবহার হয়, যেগুলো screener-এ সরাসরি চালানো যায়।
| মানদণ্ড | সীমা |
|---|---|
| Debt to Equity | ২৫%-এর নিচে |
| ROCE | ২০%-এর উপরে |
| Net Profit | ₹২০০ কোটির উপরে |
ব্যাঙ্কিং ও NBFC কোম্পানির ক্ষেত্রে উপরের নিয়ম খাটে না, কারণ তাদের ব্যবসার ধরনই আলাদা — ঋণ তাদের কাঁচামাল। তাদের জন্য আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার হয় —
| ব্যাঙ্কিং ও NBFC | সীমা |
|---|---|
| ROE | ১০%-এর উপরে |
| Net Profit | ₹১,০০০ কোটির উপরে |
সংখ্যাগুলো পাথরে খোদাই করা নয়। এগুলো একটা শুরুর বিন্দু। আপনি নিজের ঝুঁকি সহনশীলতা অনুযায়ী কড়া বা শিথিল করতে পারেন — কিন্তু ঠিক করার পর সেটা মেনে চলুন, প্রতি সপ্তাহে বদলাবেন না।
এর জন্য কোনো পেইড টুল লাগে না। screener.in-এ বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলেই করা যায়।
শেষ ধাপটাই আসল কাজ, এবং সেটা স্বয়ংক্রিয় করা যায় না। সংখ্যা বলে দেয় কোম্পানি স্বাস্থ্যবান কি না; সংখ্যা বলে না কোম্পানিটা বাজারের নেতা কি না, বা ২০৪৫ সালে এই পণ্য থাকবে কি না।
তালিকাটা ত্রৈমাসিক ফলাফলের পরে একবার করে যাচাই করুন। কোম্পানির অবস্থা বদলায় — ঋণ বাড়তে পারে, margin কমতে পারে। যেটা এক বছর আগে যোগ্য ছিল, আজ না-ও হতে পারে।
তালিকায় থাকা মানে কোম্পানিটা দেখার যোগ্য, কেনার যোগ্য নয়। মান আর দাম দুটো আলাদা জিনিস। একটা চমৎকার কোম্পানিও অতিরিক্ত দামে কিনলে বহু বছর কিছু দেয় না।
একবার তালিকা বানিয়ে বছরের পর বছর সেটাই ব্যবহার করা বিপজ্জনক। কোম্পানির মান স্থায়ী নয় — ভাল কোম্পানি খারাপ হতে পারে, আর সেটা ফলাফলে ধরা পড়ে।
ইন্টারনেটে অনেক জায়গায় তৈরি তালিকা পাওয়া যায়। কিন্তু কপি করলে আপনি শুধু নামগুলো পান — যুক্তিটা পান না। ফলে দাম পড়লে আপনি জানেন না এটা সুযোগ না বিপদ, কারণ কেন কোম্পানিটা তালিকায় ছিল সেটাই আপনি জানেন না।
নিজের হাতে তালিকা বানানোয় সময় লাগে — হয়তো এক-দুই সপ্তাহ। সেই সময়টাই আসল শিক্ষা। বানানোর প্রক্রিয়াতেই আপনি শিখে যান কোন সংখ্যা কী বলে।
সুইং ট্রেডিং-এর পুরো প্রক্রিয়া — স্টক বাছাই, এন্ট্রি, পজিশন সাইজিং ও এক্সিট — আসল চার্ট দেখে শেখানো হয়। কোনো টিপস নয়, কোনো বাই-সেল কল নয়।
WhatsApp-এ সিট বুক করুননা। Nifty 50 বা Sensex-এর মতো এটা এক্সচেঞ্জ-স্বীকৃত সূচক নয়। V40 হল ভারতীয় খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় একটা বাছাইয়ের কাঠামো। কোনো নির্দিষ্ট তালিকা "সরকারি" নয়, এবং বিভিন্ন জায়গায় সামান্য আলাদা তালিকা দেখা যায়।
সংখ্যাটা নির্দিষ্ট নয়। মানদণ্ড কতটা কড়া রাখছেন তার উপর নির্ভর করে তালিকা ছোট বা বড় হয়। গুরুত্বপূর্ণ হল মানদণ্ড, সংখ্যা নয়।
না। তালিকায় থাকা মানে কোম্পানিটা দেখার যোগ্য — কেনার যোগ্য নয়। মান আর দাম আলাদা জিনিস। কখন ঢুকবেন সেটা আলাদা সিদ্ধান্ত, এবং সেটা আপনার নিজের।
সাধারণত ত্রৈমাসিক ফলাফলের পরে একবার। কোম্পানির ঋণ বাড়তে পারে, margin কমতে পারে, প্রোমোটার শেয়ার বন্ধক রাখতে পারেন — এসব ফলাফলে ধরা পড়ে।
পাওয়া যায়, কিন্তু কপি করলে আপনি শুধু নামগুলো পান, যুক্তিটা পান না। দাম পড়লে তখন বুঝতে পারবেন না এটা সুযোগ না বিপদ। নিজে বানানোর প্রক্রিয়াটাই আসল শিক্ষা।
না, কখনও নয়। POONJEE একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, SEBI-নথিভুক্ত ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার বা রিসার্চ অ্যানালিস্ট নয়। আমরা মানদণ্ড শেখাই — বাছাই আপনি নিজে করবেন।