Home Learn About Webinar Pricing Contact Book Webinar Seat

Home/Learn/শেয়ার বাজার কীভাবে শিখবো

শিক্ষামূলক গাইড · বাংলা

শেয়ার বাজার
কীভাবে শিখবো?

নতুনদের জন্য ছয় মাসের একটা বাস্তবসম্মত ক্রম — কী আগে, কী পরে, আর কোন ধাপে কতটা সময় দেওয়া উচিত।

01শুরু করার আগে একটা সত্যি কথা

শেয়ার বাজার শেখার সবচেয়ে বড় সমস্যা তথ্যের অভাব নয় — তথ্যের বন্যা। ইউটিউবে হাজার হাজার ভিডিও, টেলিগ্রামে অসংখ্য গ্রুপ, প্রতিদিন নতুন "স্ট্র্যাটেজি"। নতুন কেউ এর মধ্যে ঢুকলে কয়েক মাস কাটিয়ে দেয়, আর শেষে বুঝতে পারে সে অনেক কিছু শুনেছে, কিন্তু কিছুই শেখেনি

এর কারণ হল, বেশিরভাগ কনটেন্ট ক্রমানুসারে সাজানো নয়। কেউ ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন শেখাচ্ছেন, কেউ ইন্ডিকেটর, কেউ "আজকের সেরা শেয়ার"। কিন্তু কোনটা আগে আর কোনটা পরে শিখতে হবে — সেটা কেউ বলে না।

এই পাতাটা কোনো নতুন তথ্য দেওয়ার জন্য নয়। এটা ক্রম ঠিক করার জন্য — কী আগে, কী পরে, আর কোন ধাপে কতটা সময় দেওয়া বাস্তবসম্মত।

02প্রথম মাস — কিছু কিনবেন না

প্রথম মাসের একটাই কাজ: বাজারটা কী জিনিস সেটা বোঝা। এই সময়ে একটাও টাকা লাগানোর দরকার নেই, এবং না লাগানোই ভাল।

যা শিখবেন

  • NSE ও BSE কী, SEBI-র ভূমিকা কী
  • Demat আর Trading অ্যাকাউন্টের পার্থক্য
  • Large cap, Mid cap, Small cap — এই ভাগগুলো কীসের ভিত্তিতে
  • একটা শেয়ারের দাম আসলে কী বোঝায়
  • Intraday, Swing, Investing — তিনটে আলাদা জিনিস কেন

যা করবেন

স্ক্রিনারে (screener.in) গিয়ে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনি যে কোম্পানির জিনিস রোজ ব্যবহার করেন — সাবান, বিস্কুট, রং, গাড়ি — তাদের নাম লিখে সার্চ করুন। সংখ্যাগুলো এখন বুঝতে না পারলেও ক্ষতি নেই। চোখ সওয়ানোই এই ধাপের কাজ।

03দ্বিতীয় মাস — কোম্পানি বিচার করা

এইখানেই বেশিরভাগ মানুষ ভুল করে। তাঁরা সরাসরি চার্টে চলে যান। কিন্তু দুর্বল কোম্পানিতে নিখুঁত এন্ট্রিও খারাপভাবেই শেষ হয়।

একটা শেয়ারের দাম পড়েছে — এটা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস বোঝাতে পারে। হয় ভাল কোম্পানি সাময়িক চাপে আছে, নয়তো কোম্পানিটাই ভেঙে পড়ছে। চার্টে দুটো প্রায় একইরকম দেখায়। শুধু সংখ্যাগুলো পার্থক্যটা বলে।

যে বৈশিষ্ট্যগুলো দেখবেন

  • ঋণ কম — Debt to Equity যত কম তত ভাল
  • ধারাবাহিক মুনাফা — এক বছর নয়, পাঁচ-সাত বছর ধরে
  • ভাল ROE ও ROCE — কোম্পানি নিজের পুঁজি থেকে কতটা তুলছে
  • Promoter pledging শূন্য — প্রোমোটার শেয়ার বন্ধক রাখলে সতর্ক হন
  • যথেষ্ট liquidity — বেরোতে চাইলে ক্রেতা পাওয়া যায় কি না

এই পাঁচটাই screener.in-এ বিনামূল্যে দেখা যায়। কোনো পেইড টুল লাগে না।

একটা ব্যায়াম করুন: আপনি নিজে ব্যবহার করেন এমন পাঁচটা কোম্পানি বেছে নিন, প্রতিটার উপর এই পাঁচটা মানদণ্ড চালান, আর লিখে রাখুন কোনটা পাশ করল কোনটা ফেল। বেশিরভাগ ফেল করবে — ফিল্টারের কাজই তো সেটা।

04তৃতীয় মাস — টাকার হিসাব

নতুনরা সবচেয়ে বেশি সময় দেন "কোন শেয়ার কিনব" ভাবতে। অথচ যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকেন, তাঁদের বেশিরভাগ সময় যায় "কত টাকা লাগাব" ভাবতে।

Position sizing

একটা সাধারণ নিয়ম হল, মোট মূলধনের ছোট একটা নির্দিষ্ট শতাংশের বেশি এক ট্রেডে না লাগানো। ধরুন মূলধন ₹২,০০,০০০ আর নিয়ম ৩% — তাহলে এক ট্রেডে যাবে ₹৬,০০০।

প্রথমে এটা হাস্যকর রকম কম লাগে। কিন্তু হিসাবটা উল্টো দিক থেকে দেখুন: এই নিয়মে টানা দশটা ট্রেড ভুল হলেও আপনার মূলধনের বড় অংশ অক্ষত থাকে। আর যিনি এক ট্রেডে ৪০% ঢেলে দেন, তাঁর দুটো ভুলেই খেলা শেষ।

ক্ষতি থেকে ফেরার অঙ্ক

ক্ষতিফিরতে যা লাগবে
১০%১১%
২৫%৩৩%
৫০%১০০%
৭৫%৩০০%

লক্ষ্য করুন — ৫০% ক্ষতি ফেরাতে ১০০% লাভ লাগে। এই কারণেই ক্ষতি ছোট রাখা লাভ বাড়ানোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

05চতুর্থ মাস — এবার চার্ট

এতদিনে আপনি জানেন কোন কোম্পানিগুলো দেখার যোগ্য, আর এক ট্রেডে কত টাকা যাবে। এবার চার্ট কাজে আসবে, কারণ এখন চার্টের একটাই কাজ — কখন বলা। কী কিনবেন সেটা আগেই ঠিক হয়ে গেছে।

  • ক্যান্ডেলস্টিক আসলে কী রেকর্ড করে — open, high, low, close
  • Support ও Resistance কীভাবে চিনবেন
  • Moving Average কী মাপে — 20, 50, 200 দিনের
  • Volume কী বলে, আর কেন দাম একা যথেষ্ট নয়

একটা সতর্কতা: প্যাটার্নের তালিকা মুখস্থ করার দরকার নেই। পঞ্চাশটা প্যাটার্ন শেখার চেয়ে পাঁচটা ভালভাবে বোঝা অনেক বেশি কাজে দেয়।

06পঞ্চম ও ষষ্ঠ মাস — কাগজে অনুশীলন

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, আর যেটা প্রায় সবাই এড়িয়ে যায়: টাকা না লাগিয়ে অনুশীলন।

কীভাবে করবেন

  1. একটা খাতা বা স্প্রেডশিট নিন
  2. যখনই মনে হয় একটা ট্রেড নেওয়া উচিত, লিখে ফেলুন — কোন শেয়ার, কোন দামে, কেন, আর কোন দামে ভুল প্রমাণিত হবে
  3. আসল টাকা লাগাবেন না
  4. কয়েক সপ্তাহ পরে ফিরে দেখুন কী হত
  5. অন্তত ২০-৩০টা এমন ট্রেড লিখুন

এটা বিরক্তিকর। কিন্তু এই ধাপ এড়িয়ে যাওয়াই সবচেয়ে দামি ভুল — কারণ তখন শেখার খরচটা টাকায় দিতে হয়, খাতায় নয়।

07ছয় মাস পরে

এবার খুব ছোট টাকায় শুরু করুন। এমন অঙ্ক যাতে পুরোটা হারালেও আপনার সংসারে কোনো প্রভাব পড়বে না। এই পর্যায়ে উদ্দেশ্য আয় নয় — অভ্যাস তৈরি

আর প্রথম দিন থেকেই জার্নাল রাখুন। প্রতিটা ট্রেডের কারণ লিখে না রাখলে নিজের ভুলের ধরন কখনও ধরা পড়ে না। এটাই সবচেয়ে অবহেলিত অভ্যাস, এবং সবচেয়ে কার্যকর।

এই পুরো ক্রমে একটা জিনিস নেই — কারও কাছ থেকে "টিপস" নেওয়া। সেটা ইচ্ছাকৃত। টিপস দিয়ে শুরু করলে আপনি কোনোদিন নিজে বাছতে শিখবেন না, আর প্রতি সপ্তাহে আবার কারও উপর নির্ভর করতে হবে।

এরপর যা পড়বেন

ফ্রি লার্নিং

ভিডিওতে দেখুন

  • সহজ ভাষায় সুইং ট্রেডিং-এর ধারণা
  • মার্কেট সাইকোলজি ও শৃঙ্খলা সিরিজ
  • আসল চার্ট বিশ্লেষণ — কোনো হাইপ নয়
চ্যানেল দেখুন
লাইভ ওয়েবিনার

নিজের ভাষায় শিখুন,
লাইভ চার্টে

শনি + রবি দিনে ২ ঘণ্টা বাংলা + হিন্দি ০ টিপস

সুইং ট্রেডিং-এর পুরো প্রক্রিয়া — স্টক বাছাই, এন্ট্রি, পজিশন সাইজিং ও এক্সিট — আসল চার্ট দেখে শেখানো হয়। কোনো টিপস নয়, কোনো বাই-সেল কল নয়।

WhatsApp-এ সিট বুক করুন
25 Seats Only ছোট ব্যাচ — যাতে প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
সাধারণ প্রশ্ন

যা সবাই জানতে চান

মৌলিক বিষয়গুলো বুঝতে কয়েক মাস লাগে, কিন্তু নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস তৈরি হতে অনেক বেশি সময় লাগে। যে ক্রমটা এই পাতায় দেওয়া আছে সেটা ছয় মাসের, এবং সেটাই বাস্তবসম্মত। যাঁরা বলেন এক সপ্তাহে শিখিয়ে দেবেন, তাঁদের নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

শেখার সময় কোনো টাকাই লাগে না — প্রথম চার মাস পুরোটাই পড়া আর অনুশীলন। আসল ট্রেড শুরু করার সময় এমন অঙ্ক দিয়ে করুন যা পুরোটা হারালেও আপনার সংসারে প্রভাব পড়বে না।

শুরুতে কিছুই কেনার দরকার নেই। screener.in, tradingview.com, আর NSE ও BSE-র নিজস্ব ওয়েবসাইট — সবই বিনামূল্যে, আর এগুলোই যথেষ্ট। কোর্স যেটা যোগ করে সেটা তথ্য নয়, ক্রম আর প্রশ্নের উত্তর।

হ্যাঁ। দিনে ৩০-৪৫ মিনিট যথেষ্ট, বিশেষ করে বাজার বন্ধ হওয়ার পরে। Swing trading পদ্ধতিটাই চাকরিজীবীদের জন্য বেশি উপযুক্ত, কারণ এতে সারাদিন স্ক্রিনের সামনে বসতে হয় না।

টিপস দিয়ে শুরু করলে আপনি কোনোদিন নিজে বাছতে শেখেন না। যিনি টিপস দিচ্ছেন তিনি কখন বেরোবেন সেটাও আপনাকে বলবেন না। ফলে প্রতিটা ট্রেডে আপনি অন্ধ, আর প্রতি সপ্তাহে আবার কারও উপর নির্ভরশীল।