২০০ দিন মানে মোটামুটি এক বছরের ট্রেডিং দিন। ভারতে বাজার বছরে প্রায় ২৪৫-২৫০ দিন খোলা থাকে, তাই ২০০ দিন প্রায় দশ মাসের গড়।
এই দৈর্ঘ্যটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে একটা পূর্ণ চক্র ঢুকে যায় — চারটে ত্রৈমাসিক ফলাফল, উৎসবের মরশুম, বাজেট, এবং সাধারণত অন্তত একটা বড় ওঠানামা।
২০ বা ৫০ দিনের গড় সাম্প্রতিক মেজাজ দেখায় — যা প্রায়ই বদলায়। ২০০ দিনের গড় সহজে নড়ে না। এটা একটা রেফারেন্স রেখা — কোম্পানিটা তার নিজের এক বছরের গড় অবস্থানের তুলনায় কোথায় আছে।
আরেকটা কারণ আছে, এবং সেটা কম বলা হয়: এই লাইনটা প্রচুর মানুষ দেখেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ফান্ড ম্যানেজার, অ্যালগরিদম — অনেকের নিয়মেই ২০০ দিনের গড় ঢুকে আছে। যে জায়গা অনেকে দেখেন, সেখানে লেনদেন বাড়ে। এটা জাদু নয়, সম্মিলিত মনোযোগ।
| অবস্থা | সাধারণত যা বোঝায় |
|---|---|
| দাম ২০০ DMA-র উপরে | দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অবস্থা |
| দাম ২০০ DMA-র নিচে | correction বা দুর্বলতা |
| ঠিক লাইনের উপরে ঘোরাফেরা | সিদ্ধান্তহীন এলাকা |
| ২০০ DMA নিজেই নিচে নামছে | দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা দুর্বল হচ্ছে |
শেষ সারিটা আলাদা করে খেয়াল করার মতো। দাম কোথায় আছে সেটা এক জিনিস; ২০০ DMA লাইনটা নিজে কোন দিকে ঢালু সেটা আরেক জিনিস।
একটা কোম্পানির দাম ২০০ DMA-র নিচে থাকতে পারে কিন্তু লাইনটা এখনও উপরের দিকে ঢালু — এটা সাময়িক পতনের চেহারা। আবার দাম নিচে এবং লাইনও নিচে নামছে — এটা দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার চেহারা।
"২০০ DMA-র নিচে" — এটা খুব মোটা তথ্য। একটা শেয়ার ২% নিচে থাকতে পারে, আরেকটা ৪০%। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা পরিস্থিতি।
সহজ অঙ্ক: (২০০ DMA − বর্তমান দাম) ÷ ২০০ DMA × ১০০
ধরুন ২০০ DMA ₹৫০০, বর্তমান দাম ₹৪৪০। তাহলে দূরত্ব = (৫০০ − ৪৪০) ÷ ৫০০ × ১০০ = ১২%।
| ২০০ DMA থেকে দূরত্ব | সাধারণত যা বোঝায় |
|---|---|
| ০-৫% নিচে | সামান্য correction |
| ৫-১৫% নিচে | স্পষ্ট correction |
| ১৫-৩০% নিচে | গভীর correction |
| ৩০%+ নিচে | খতিয়ে দেখুন — শুধু correction নাও হতে পারে |
শেষ সারিটা সতর্কতার। একটা শেয়ার যখন তার এক বছরের গড় থেকে ৩০-৪০% নিচে, তখন প্রশ্নটা "কত সস্তা হয়েছে" নয় — প্রশ্নটা "বাজার এমন কী জানে যা আমি জানি না?" এই অবস্থায় red flag যাচাই বাধ্যতামূলক।
অনেকে ২০০ DMA-কে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেন — "লাইন পার করল, কিনে ফেলি"। আরেকটা পদ্ধতি হল একে শর্ত হিসেবে ব্যবহার করা।
সংকেত মানে — এটা ঘটলে কাজ করো। শর্ত মানে — এটা না হলে দেখাই না।
correction-ভিত্তিক পদ্ধতিতে অনেকে একটা কড়া শর্ত রাখেন: দাম ২০০ DMA-র নিচে না থাকলে সেই কোম্পানি সেদিনের তালিকাতেই আসবে না। যত ভালই দেখাক।
একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক: শর্তটা এমনভাবে রাখা উচিত যাতে তথ্য না পেলে কোম্পানিটা বাদ পড়ে, ঢোকে না। ২০০ DMA হিসাব করতে ২০০ দিনের তথ্য লাগে — নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সেটা থাকে না। তথ্যের অভাবে ঢুকে পড়া সবচেয়ে বিপজ্জনক।
দাম ২০০ DMA ছুঁয়েছে মানেই ফিরে যাবে — এমন কোনো নিয়ম নেই। বহু শেয়ার লাইন ভেঙে আরও অনেক নিচে নেমে যায়। লাইনটা সমর্থন নয়, রেফারেন্স।
২০০ DMA-র ২৫% নিচে থাকা দুর্বল কোম্পানি আর ভাল কোম্পানি — চার্টে একইরকম দেখায়। পার্থক্যটা শুধু সংখ্যায় ধরা পড়ে।
২০০ DMA দৈনিক চার্টের জিনিস। ১৫ মিনিটের চার্টে ২০০ মোমবাতি মানে মাত্র কয়েক দিন — সম্পূর্ণ আলাদা অর্থ, এবং swing trading-এর জন্য অপ্রাসঙ্গিক।
২০০ DMA একটা তথ্য, পুরো পদ্ধতি নয়। কোম্পানির মান, ভলিউম, বন্ধ হওয়ার অবস্থান, ফলাফলের তারিখ — সব মিলিয়ে ছবিটা তৈরি হয়।
অভ্যাস তৈরির জন্য: কয়েকটা পরিচিত কোম্পানির চার্ট খুলে দেখুন গত এক বছরে দাম কতবার ২০০ DMA পেরিয়েছে, আর প্রতিবার তারপর কী হয়েছে। কোনো নিয়ম বেরোবে না — কিন্তু লাইনটার আচরণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে।
সুইং ট্রেডিং-এর পুরো প্রক্রিয়া — স্টক বাছাই, এন্ট্রি, পজিশন সাইজিং ও এক্সিট — আসল চার্ট দেখে শেখানো হয়। কোনো টিপস নয়, কোনো বাই-সেল কল নয়।
WhatsApp-এ সিট বুক করুননা। এটা একটা প্রচলিত ভুল ধারণা। বহু শেয়ার ২০০ DMA ভেঙে অনেক নিচে নেমে যায়। এটা সমর্থন নয়, একটা রেফারেন্স রেখা — কোম্পানিটা তার এক বছরের গড়ের তুলনায় কোথায় আছে সেটা বোঝার জন্য।
না। ভাল কোম্পানিও বাজার পড়লে বা সেক্টরে চাপ এলে ২০০ DMA-র নিচে যায়। প্রশ্নটা হল কোম্পানিটা মানসম্পন্ন কি না — সেটা চার্ট নয়, সংখ্যা বলে।
৩০%-এর বেশি নিচে থাকলে খতিয়ে দেখা দরকার। এত দূরত্ব সাধারণত শুধু correction নয় — বাজার হয়তো এমন কিছু জানে যা আপনি জানেন না। এই অবস্থায় red flag যাচাই বাধ্যতামূলক।
Daily chart-এ। ১৫ মিনিট বা ১ ঘণ্টার চার্টে ২০০ মোমবাতি মানে মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ — সম্পূর্ণ আলাদা অর্থ, এবং swing trading-এ অপ্রাসঙ্গিক।
দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা দুর্বল হচ্ছে। দাম কোথায় আছে আর লাইনটা কোন দিকে ঢালু — দুটো আলাদা তথ্য। দাম নিচে কিন্তু লাইন এখনও উপরের দিকে ঢালু হলে সেটা সাময়িক পতনের চেহারা।
না, এবং সেটা করা উচিতও নয়। এটা একটা তথ্য মাত্র। কোম্পানির মান, ভলিউম, দিনের বন্ধ হওয়ার অবস্থান, ফলাফলের তারিখ — সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত হয়।