অনেকে ভাবেন risk management মানে ক্ষতি এড়ানো। সেটা সম্ভব নয় — বাজারে ক্ষতি হবেই, সেটা পদ্ধতির অংশ।
Risk management-এর আসল অর্থ হল: কোনো একটা ভুল যেন আপনাকে খেলা থেকে বের করে দিতে না পারে।
একজন ট্রেডার দশটার মধ্যে ছয়টায় ভুল করেও লাভে থাকতে পারেন, যদি ভুলগুলো ছোট হয় আর ঠিকগুলো তুলনায় বড় হয়। আবার একজন আটটা ঠিক করেও পুরো মূলধন হারাতে পারেন, যদি দুটো ভুলে বিরাট টাকা লাগানো থাকে।
মূল ধারণাটা এই: আপনি বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না — দাম কোন দিকে যাবে সেটা আপনার হাতে নেই। যা আপনার হাতে আছে তা হল কত টাকা লাগাবেন, কখন বেরোবেন, আর কতগুলো পজিশন রাখবেন। Risk management মানে শুধু সেই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করা যা আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে।
বেশিরভাগ মানুষ ঝুঁকি বলতে শুধু একটা শেয়ারের ঝুঁকি বোঝেন। বাস্তবে ঝুঁকি চারটে স্তরে থাকে, আর একটা সামলালে বাকিগুলো আপনা থেকে সামলায় না।
| স্তর | ঝুঁকি | সামলানোর উপায় |
|---|---|---|
| ১. ট্রেড | একটা শেয়ার ভুল প্রমাণিত হওয়া | Position sizing |
| ২. সেক্টর | একই খাতের সব শেয়ার একসঙ্গে পড়া | এক সেক্টরে সীমা |
| ৩. পোর্টফোলিও | মোট কত টাকা বাজারে আছে | নগদের অনুপাত |
| ৪. বাজার | পুরো বাজার ধসে পড়া | কম exposure, ধৈর্য |
চারটে স্তরই আলাদা করে ভাবতে হয়। ৩% নিয়ম মেনেও যদি আটটা পজিশনই ব্যাঙ্কিং সেক্টরে থাকে, তাহলে আপনি প্রথম স্তর সামলেছেন কিন্তু দ্বিতীয় স্তরে সম্পূর্ণ অরক্ষিত।
এটা নতুনদের সবচেয়ে অলক্ষ্যে থাকা ঝুঁকি।
ধরুন আপনি ছটা আলাদা শেয়ার কিনেছেন — মনে হচ্ছে ঝুঁকি ভাগ হয়ে গেছে। কিন্তু যদি ছটাই IT কোম্পানি হয়, তাহলে বৈশ্বিক IT খরচ কমলে ছটাই একসঙ্গে পড়বে। কার্যত আপনার একটাই বড় পজিশন আছে, শুধু ছটা নাম নিয়ে।
এক সেক্টরে দুটোর বেশি পজিশন নয়। ব্যাঙ্কিং, IT, FMCG, ফার্মা, অটো, ধাতু — প্রতিটা আলাদা ঝুড়ি হিসেবে ভাবুন।
এটা মানতে গেলে মাঝে মাঝে ভাল দেখতে সুযোগ ছাড়তে হবে। সেটাই উদ্দেশ্য — নিয়ম তখনই কাজে লাগে যখন সেটা মানা কষ্টকর।
সেক্টর চেনার সহজ উপায়: screener.in-এ যেকোনো কোম্পানির পাতায় তার সেক্টর লেখা থাকে। কেনার আগে একবার দেখে নিন আপনার তালিকায় ইতিমধ্যে ওই সেক্টরের কটা আছে।
নতুনরা প্রায়ই ভাবেন টাকা বসিয়ে রাখা মানে সুযোগ নষ্ট। বাস্তবে নগদ থাকাটাও একটা সিদ্ধান্ত, এবং প্রায়ই সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত।
অনেক অভিজ্ঞ swing trader-এর মোট মূলধনের ৬০-৮০% বেশিরভাগ সময় নগদেই থাকে। এটা অলসতা নয় — প্রস্তুতি।
আপনি বাধ্য হয়ে যান। ভাল সুযোগ এলে কিছু বিক্রি করতে হবে, হয়তো ভুল সময়ে। বাজার পড়লে কিছু করার থাকে না, শুধু দেখা ছাড়া। আর সবচেয়ে খারাপ — চাপে থাকা মন তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রতিটা ট্রেডে ঢোকার আগেই দুটো প্রশ্নের উত্তর লিখে রাখুন —
বেশিরভাগ মানুষ শুধু প্রথমটা ভেবে ঢোকেন। অর্থাৎ তাঁরা অর্ধেক পরিকল্পনা নিয়ে ঢুকছেন।
দাম পড়তে শুরু করলে মন যুক্তি সাজাতে শুরু করে — "আর একটু দেখি", "নিশ্চয়ই ফিরে আসবে", "এত ভাল কোম্পানি পড়তেই পারে না"। এই যুক্তিগুলো শুনতে বিশ্বাসযোগ্য লাগে, কিন্তু এগুলো হিসাব নয়, স্বস্তি খোঁজা।
আগে থেকে লেখা নিয়ম এই আলোচনাটাই বন্ধ করে দেয়। আপনি শুধু দেখেন শর্ত পূরণ হয়েছে কি না।
অনেকে একটা লিখিত checklist রাখেন এবং প্রতিটা ট্রেডের আগে সেটা পূরণ করেন — কোন শেয়ার, কেন, কত টাকা, কোন অবস্থায় বেরোব। যেদিন কোনো ঘর ফাঁকা থাকে, সেদিন ট্রেডটা নেওয়া হয় না। সহজ, বিরক্তিকর, এবং কার্যকর।
সব ট্রেডারের জীবনে খারাপ সময় আসে — টানা কয়েকটা ট্রেড ভুল হয়। এই সময়টাই সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ তখন মানুষ সবচেয়ে বেশি নিয়ম ভাঙে।
উল্টোটা। খারাপ সময়ে অঙ্ক কমান, ট্রেড কমান, বা কিছুদিন থামুন।
অনেকে একটা নিয়ম রাখেন: টানা তিনটে ট্রেড ভুল হলে এক সপ্তাহ কোনো নতুন ট্রেড নয়। শুধু পর্যবেক্ষণ আর জার্নাল পড়া। এতে দুটো জিনিস হয় — ক্ষতি থামে, আর ভুলের ধরনটা চোখে পড়ে।
মূলধন কমলে ৩% নিয়মে অঙ্কও কমে — এবং সেটাই ঠিক। "তাড়াতাড়ি ফিরে পাওয়ার" জন্য বড় অঙ্কে যাওয়া ট্রেডিং নয়, জুয়া। এভাবেই বেশিরভাগ মানুষ বাজার ছাড়েন।
প্রতিটা ট্রেডের কারণ লিখে না রাখলে নিজের ভুলের ধরন কখনও ধরা পড়ে না। আপনার মনে থাকে শুধু বড় লাভ আর বড় ক্ষতিগুলো — মাঝের ধরনটা হারিয়ে যায়।
| ঘর | কী লিখবেন |
|---|---|
| তারিখ | কবে ঢুকলেন |
| শেয়ার | কোনটা |
| কারণ | কেন এটা বেছেছেন — এক-দুই লাইন |
| পরিমাণ | কত টাকা, মূলধনের কত শতাংশ |
| বেরোনোর শর্ত | কোন অবস্থায় বেরোবেন, দুই দিকেই |
| ফলাফল | কী হল |
| শিক্ষা | পরেরবার কী আলাদা করবেন |
তিন মাস পরে এই জার্নাল পড়লে যা বেরোয় সেটাই আসল শিক্ষা। যেমন — হয়তো দেখলেন আপনার বেশিরভাগ ক্ষতি একটা নির্দিষ্ট সেক্টরে, বা ফলাফলের আগে নেওয়া ট্রেডে, বা যেদিন তাড়াহুড়োয় ঢুকেছেন সেদিন।
কোনো বই বা কোর্স আপনাকে এই তথ্য দিতে পারবে না। এটা শুধু আপনার নিজের রেকর্ড থেকেই আসে।
সুইং ট্রেডিং-এর পুরো প্রক্রিয়া — স্টক বাছাই, এন্ট্রি, পজিশন সাইজিং ও এক্সিট — আসল চার্ট দেখে শেখানো হয়। কোনো টিপস নয়, কোনো বাই-সেল কল নয়।
WhatsApp-এ সিট বুক করুনStop loss risk management-এর একটা অংশ হতে পারে, কিন্তু পুরোটা নয়। Position sizing, সেক্টরের সীমা, নগদের অনুপাত, আগে থেকে ঠিক করা বেরোনোর শর্ত — সবটা মিলিয়ে risk management। শুধু stop loss বসিয়ে বাকিগুলো উপেক্ষা করলে ঝুঁকি কমে না।
কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অনেক swing trader বেশিরভাগ সময় ৬০-৮০% নগদে রাখেন, কারণ ভাল setup সবসময় থাকে না। মূল কথা হল, সব টাকা বাজারে লাগিয়ে রাখলে সুযোগ এলে কাজে লাগানোর ক্ষমতা থাকে না।
অনেকে দুটোর বেশি রাখেন না। ছটা আলাদা শেয়ার কিনলেও যদি ছটাই একই সেক্টরের হয়, তাহলে ঝুঁকি ভাগ হয়নি — সেক্টর পড়লে সবকটাই একসঙ্গে পড়বে।
অঙ্ক কমান, ট্রেডের সংখ্যা কমান, বা কিছুদিন থামুন। অনেকে নিয়ম রাখেন — টানা তিনটে ভুল হলে এক সপ্তাহ নতুন ট্রেড নয়। ক্ষতি ফিরে পেতে বড় অঙ্কে যাওয়াই সবচেয়ে দ্রুত পুরো মূলধন শেষ করার রাস্তা।
হ্যাঁ, এবং এটাই সবচেয়ে অবহেলিত অভ্যাস। লিখে না রাখলে নিজের ভুলের ধরন ধরা পড়ে না — মনে থাকে শুধু বড় লাভ আর বড় ক্ষতি। তিন মাসের জার্নাল পড়লে যা বেরোয়, সেটা কোনো কোর্স দিতে পারবে না।
না। POONJEE একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, SEBI-নথিভুক্ত ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার বা রিসার্চ অ্যানালিস্ট নয়। আমরা কোনো টিপস, বাই-সেল কল বা নিশ্চিত রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিই না। পদ্ধতি শেখানো হয় — সিদ্ধান্ত আপনার।