Home Learn About Webinar Pricing Contact Book Webinar Seat

Home/Learn/Position Sizing বাংলায়

শিক্ষামূলক গাইড · বাংলা

Position Sizing
বাংলায়

এক ট্রেডে কত টাকা লাগাবেন — যে প্রশ্নটা "কোন শেয়ার কিনব" প্রশ্নের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

01ভুল প্রশ্ন আর ঠিক প্রশ্ন

নতুন ট্রেডাররা প্রায় সমস্ত সময় দেন একটাই প্রশ্নে — "কোন শেয়ার কিনব?"

অথচ যাঁরা বহু বছর ধরে বাজারে টিকে আছেন, তাঁদের বেশিরভাগ সময় যায় সম্পূর্ণ আলাদা একটা প্রশ্নে — "কত টাকা লাগাব?"

এই দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তরকেই বলে position sizing। এটা শুনতে হিসাবরক্ষকের কাজ মনে হয়, উত্তেজনাপূর্ণ কিছু নয়। কিন্তু বাস্তবে এটাই ঠিক করে আপনি বাজারে টিকবেন কি না।

একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া যাক: ভাল শেয়ার বাছাই আপনাকে লাভ দিতে পারে। ঠিক position sizing আপনাকে আরেকটা সুযোগ দেয়। প্রথমটা ছাড়া চলে, দ্বিতীয়টা ছাড়া চলে না।

02যে অঙ্কটা সবাই দেরিতে শেখে

ক্ষতি আর লাভ সমান গতিতে চলে না। এটাই position sizing-এর গোটা ভিত্তি।

ধরুন আপনার ₹১,০০,০০০ ছিল, ৫০% ক্ষতি হল। এখন আছে ₹৫০,০০০। আগের জায়গায় ফিরতে কত লাভ লাগবে? ৫০% নয় — ১০০%

ক্ষতি হলফিরতে যা লাগবে
১০%১১%
২০%২৫%
৩০%৪৩%
৪০%৬৭%
৫০%১০০%
৬০%১৫০%
৭৫%৩০০%
৯০%৯০০%

তালিকাটা যত নিচে যায়, ব্যবধান তত ভয়ানক হয়। ৯০% ক্ষতির পরে ফিরতে ৯০০% লাভ লাগে — বাস্তবে যা প্রায় অসম্ভব।

এই কারণেই অভিজ্ঞ ট্রেডাররা লাভ বাড়ানোর চেয়ে ক্ষতি ছোট রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেন। বড় ক্ষতি শুধু টাকা কাড়ে না, ফেরার রাস্তাটাও কেড়ে নেয়।

03শতাংশের নিয়ম

সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর নিয়ম হল: মোট মূলধনের একটা নির্দিষ্ট ছোট শতাংশের বেশি এক ট্রেডে লাগাবেন না।

অনেকে ২% থেকে ৫%-এর মধ্যে রাখেন। ধরা যাক আপনি ৩% নিয়ম মানছেন —

মোট মূলধনএক ট্রেডে (৩%)সর্বোচ্চ পজিশন
₹৫০,০০০₹১,৫০০৩৩টি
₹১,০০,০০০₹৩,০০০৩৩টি
₹৫,০০,০০০₹১৫,০০০৩৩টি
₹১০,০০,০০০₹৩০,০০০৩৩টি

প্রথমবার দেখে এটা হাস্যকর রকম কম মনে হয়। "₹৫ লাখ আছে, আর মাত্র ₹১৫ হাজার লাগাব?"

হিসাবটা উল্টো দিক থেকে দেখুন

এই নিয়মে টানা দশটা ট্রেড সম্পূর্ণ ভুল হলেও আপনার মূলধনের বড় অংশ অক্ষত থাকে। আপনি এগারোতম চেষ্টা করতে পারবেন।

আর যিনি এক ট্রেডে ৪০% ঢেলে দেন? তাঁর দুটো ভুলেই খেলা শেষ। তিনি হয়তো আপনার চেয়ে ভাল শেয়ার বেছেছিলেন — কিন্তু তিনি আর বাজারে নেই।

শতাংশটা ৩% হতেই হবে এমন নয়। ২% বেশি রক্ষণশীল, ৫% বেশি আক্রমণাত্মক। গুরুত্বপূর্ণ হল একটা সংখ্যা ঠিক করা এবং সেটা মেনে চলা — প্রতিবার মেজাজ অনুযায়ী বদলানো নয়।

04একসঙ্গে কতগুলো পজিশন

৩% নিয়ম মানলে তত্ত্বগতভাবে ৩৩টা পজিশন নেওয়া যায়। বাস্তবে সেটা করা উচিত নয়।

কেন নয়

  • দশটার বেশি পজিশন খোলা থাকলে কোনোটাই ঠিকমতো নজরে থাকে না
  • প্রতিটার কারণ মনে রাখা অসম্ভব হয়ে যায়
  • খারাপ খবর এলে কোনটায় আগে নজর দেবেন বুঝতে পারবেন না

বেশিরভাগ swing trader একসঙ্গে ৫ থেকে ১০টা পজিশনের বেশি রাখেন না। এতে মোট মূলধনের ১৫-৩০% বাজারে থাকে, বাকিটা নগদে — যা নতুন সুযোগের জন্য প্রস্তুত।

বৈচিত্র্য মানে সংখ্যা নয়

পাঁচটা আলাদা শেয়ার কিনেছেন মানেই ঝুঁকি ভাগ হয়ে গেছে — এটা ভুল ধারণা। যদি পাঁচটাই একই সেক্টরের হয়, তাহলে সেক্টর ধসলে পাঁচটাই একসঙ্গে পড়বে। কার্যত আপনার একটাই বড় পজিশন আছে, শুধু নাম আলাদা।

একটা সহজ নিয়ম: এক সেক্টরে দুটোর বেশি নয়। ব্যাঙ্কিং, IT, FMCG, ফার্মা — প্রতিটা আলাদা ঝুড়ি।

05গড় করা — কখন, কতবার

দাম পড়লে আরও কেনা (averaging) নিয়ে দুই দলে তুমুল বিতর্ক আছে। বাস্তবতা হল, এটা নির্ভর করে কেন দাম পড়ছে তার উপর।

দাম পড়ার কারণকী করা যায়
পুরো বাজার পড়ছেকোম্পানি ঠিক থাকলে বিবেচনা করা যায়
সেক্টরে সাময়িক চাপসতর্কভাবে বিবেচনা করা যায়
কোম্পানির ফলাফল খারাপআগে কারণ বুঝুন
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপএকেবারেই নয়
ব্যবসাই ভেঙে পড়ছেএকেবারেই নয়

যদি গড় করেন, নিয়ম আগে ঠিক করুন

গড় করার সিদ্ধান্ত দাম পড়ার পরে নেওয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ তখন আপনি হিসাব করছেন না — নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

অনেকে একটা কড়া নিয়ম রাখেন: একবারের বেশি গড় নয়, এবং সেটাও একই ৩% পরিমাণে। মানে এক ট্রেডে সর্বোচ্চ ৬% — তার বেশি কখনও নয়। নিয়মটা আগে লেখা থাকলে আবেগ ঢোকার জায়গা থাকে না।

সবচেয়ে দামি ভুল: "আরও সস্তা হয়েছে" ভেবে দুর্বল কোম্পানিতে বারবার টাকা ঢালা। এতে গর্ত ভরাট হয় না — গর্ত আরও গভীর হয়। যে কোম্পানির বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ আছে, সেখানে কোনো দামেই গড় করার প্রশ্ন ওঠে না।

06মূলধন বাড়লে কী বদলায়

একটা সাধারণ ভুল হল — মূলধন বাড়লেও পুরনো টাকার অঙ্ক ধরে রাখা, বা উল্টোটা, হঠাৎ অনেক বড় অঙ্কে চলে যাওয়া।

শতাংশের নিয়মের সুবিধাই এখানে। মূলধন বাড়লে প্রতি ট্রেডের অঙ্ক নিজে থেকেই বাড়ে, আর কমলে নিজে থেকেই কমে। আপনাকে আলাদা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় না।

কখন হিসাব নতুন করে করবেন

  • প্রতি তিন মাসে একবার — মোট মূলধন কত, সেই অনুযায়ী ৩% কত
  • বড় কোনো টাকা যোগ বা তুলে নেওয়ার পরে
  • বড় ক্ষতির পরে — তখন অঙ্ক কমবে, এবং সেটাই ঠিক

শেষ পয়েন্টটা গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতির পরে অনেকে "তাড়াতাড়ি ফিরে পেতে" বড় অঙ্কে যান। এটাই সবচেয়ে দ্রুত পুরো মূলধন শেষ করার রাস্তা।

07একটা বাস্তব উদাহরণ

ধরা যাক আপনার মূলধন ₹২,০০,০০০, নিয়ম ৩%, এবং আপনি একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৮টা পজিশন রাখবেন ঠিক করেছেন।

হিসাব
মোট মূলধন₹২,০০,০০০
এক ট্রেডে (৩%)₹৬,০০০
সর্বোচ্চ পজিশন৮টি
সর্বোচ্চ বিনিয়োগ₹৪৮,০০০ (২৪%)
নগদে থাকবে₹১,৫২,০০০ (৭৬%)
গড় করলে সর্বোচ্চ₹১২,০০০ প্রতি ট্রেড

এখন একটা শেয়ারের দাম ₹৪৫০ হলে আপনি কিনবেন প্রায় ১৩টি শেয়ার (₹৫,৮৫০)। দাম ₹১,২০০ হলে ৫টি (₹৬,০০০)।

লক্ষ্য করুন — শেয়ারের সংখ্যা বদলায়, টাকার অঙ্ক বদলায় না। এটাই position sizing। আপনি ঠিক করছেন কত টাকা ঝুঁকিতে ফেলবেন, তারপর সেই অনুযায়ী সংখ্যা বেরোচ্ছে — উল্টোটা নয়।

বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার উল্টো দিক থেকে ভাবেন — "১০০টা শেয়ার কিনি" বা "৫০ হাজার লাগাই"। সংখ্যা বা অঙ্ক আগে ঠিক করে ফেলেন, ঝুঁকি পরে হিসাব করেন। ঠিক পদ্ধতি হল ঝুঁকি আগে, সংখ্যা পরে।

এরপর যা পড়বেন

ফ্রি লার্নিং

ভিডিওতে দেখুন

  • সহজ ভাষায় সুইং ট্রেডিং-এর ধারণা
  • মার্কেট সাইকোলজি ও শৃঙ্খলা সিরিজ
  • আসল চার্ট বিশ্লেষণ — কোনো হাইপ নয়
চ্যানেল দেখুন
লাইভ ওয়েবিনার

নিজের ভাষায় শিখুন,
লাইভ চার্টে

শনি + রবি দিনে ২ ঘণ্টা বাংলা + হিন্দি ০ টিপস

সুইং ট্রেডিং-এর পুরো প্রক্রিয়া — স্টক বাছাই, এন্ট্রি, পজিশন সাইজিং ও এক্সিট — আসল চার্ট দেখে শেখানো হয়। কোনো টিপস নয়, কোনো বাই-সেল কল নয়।

WhatsApp-এ সিট বুক করুন
25 Seats Only ছোট ব্যাচ — যাতে প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
সাধারণ প্রশ্ন

যা সবাই জানতে চান

কোনো একটা সংখ্যা সবার জন্য ঠিক নয়। ২% বেশি রক্ষণশীল, ৫% বেশি আক্রমণাত্মক। যেটা আপনার মূলধন, আয় ও মানসিক সহনশীলতার সঙ্গে মেলে সেটা বাছুন। গুরুত্বপূর্ণ হল একটা সংখ্যা ঠিক করে সেটা ধারাবাহিকভাবে মেনে চলা।

যায়, তবে খুব ছোট মূলধনে প্রতিটি ট্রেডের অঙ্ক এত ছোট হয়ে যায় যে ব্রোকারেজ ও অন্যান্য খরচের অনুপাত বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে কম পজিশন রাখা এবং ধীরে মূলধন বাড়ানোই বাস্তবসম্মত।

এই ভরসাটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক অনুভূতি। যাঁরা বাজার ছেড়ে চলে যান তাঁদের বেশিরভাগই একটা "নিশ্চিত" ট্রেডে বেশি লাগিয়েছিলেন। নিয়মের উদ্দেশ্যই হল আপনাকে নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে বাঁচানো।

অনেকে একবারের বেশি গড় করেন না, এবং সেটাও একই পরিমাণে — অর্থাৎ এক ট্রেডে সর্বোচ্চ দ্বিগুণ। নিয়মটা দাম পড়ার আগেই ঠিক করে রাখা জরুরি, কারণ পড়ার পরে নেওয়া সিদ্ধান্তে আবেগ ঢুকে যায়।

এটাই সবচেয়ে দ্রুত পুরো মূলধন শেষ করার পদ্ধতি। ক্ষতির পরে মূলধন কমে গেছে, তাই ৩% নিয়মে অঙ্কও কমবে — সেটাই ঠিক। বড় অঙ্কে গিয়ে "ফিরে পাওয়ার" চেষ্টা ট্রেডিং নয়, জুয়া।

না। POONJEE একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, SEBI-নথিভুক্ত ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার বা রিসার্চ অ্যানালিস্ট নয়। আমরা পদ্ধতি শেখাই — কোন শেয়ারে কত টাকা লাগাবেন সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আপনার।